আল্লাহ কেনো আমাদের পরীক্ষা করেন

আল্লাহ তা’আলা বললেন:

“আ হাসিবান নাস” মানুষ কি মনে করে যে,

“আন ইউতরাকু” তাকে ছেড়ে দেয়া হবে,

“আন ইয়াকুলু আমাননা” ঈমান এনেছি বললেই,

“ওয়া হুম লা ইউফতানুন” এবং তাদেরকে পরিক্ষা করা হবেনা?

আল্লাহ্‌ তা’আলার এ কথাটি আমাকে ভাবিয়ে তুলল। বিশেষ করে “ইউফতানুন” শব্দটি। যার ‘মাসদার’ বা রুট হলো “ফিতনাহ”।

এই ফিতনাহর লিটারেল বাংলা আমরা জানি “পরিক্ষা”। কিন্তু যেহেতু আল্লাহ এই ফিতনাহর মাধ্যমে আমাকে পরিক্ষা করবেন এবং সেই পরিক্ষার উপর ডিপেন্ড করে আমার ঈমান আমার আখিরাত সেহেতু এই “ফিতনাহ” কে ভালোভাবে বুঝতে হবে।

এরপর ক্লাসিক্যাল এরাবিকে এর কিছু ভিন্ন ব্যবহার পেলাম, যেমন:

বলা হয়, “ফাতানা আল ফিদ্দাহ ওয়া আয যাহাব” সে রৌপ্য ও স্বর্ণকে আগুনে দ্রবীভূত করল।

একে ‘তাসফিয়াহ’ পিউরিফাই করার জন্য ও কাঙ্ক্ষিত রুপে গঠন করার জন্য।

আবার, “আস সাঈগ” অর্থাৎ অলঙ্কারশিল্পীকে বলা হয় “আল ফাততান”।

আবার, বলা হয় “ফাতানা আর রাগীফা” সে রুটিকে আগুনে সেঁকল।

আবার, আগুন যার অবস্থা পরিবর্তন করেছে এমন প্রত্যেক বস্তুকে বলা হয় “মাফতুন”।

এখান থেকে [ ফা – তা – নুন ] এই রুটের কয়েকটি কেন্দ্রীয় অর্থ পেলাম, যেমন:

১। বস্তুকে একটি অবস্থার মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করানোর মাধ্যমে একে ভেজালমুক্ত ও খাঁটি করা। যেমন রৌপ্য ও স্বর্ণকে আগুনে পুড়িয়ে ভেজালমুক্ত ও খাঁটি করা হল।

২। বস্তুকে একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করানোর মাধ্যমে একে তার কাঙ্ক্ষিত রুপে গঠন করা। যেমন রৌপ্য ও স্বর্ণকে আগুনে পুড়িয়ে একটি সুন্দর অলঙ্কারে পরিণত করা হয়।

৩। বস্তুকে একটি অবস্থার মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করানোর মাধ্যমে তাকে পরিনত করা, ব্যবহার উপযোগী করা, যা উপকারে আসে। যেমন আটার খামির, যা ছিল অপরিণত, খাওয়ার অনুপযোগী, যা কোন উপকারে আসেনা, তাকে আগুনে পুড়িয়ে সুস্বাদু রুটিতে পরিণত করা হল, যা খাওয়ার উপযুক্ত, দেহকে শক্তি প্রদানকারী।

তাহলে “ফিতনাহ” হলো এমন কিছু যার মধ্যে আমাদেরকে কঠিন স্ট্রাগল করতে হয়, হার্ড ওয়ার্ক করতে হয়, নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়। যার মাধ্যমে রব আমাদেরকে ভেজালমুক্ত ও খাঁটি মানুষ বানাতে চান। আমাদেরকে সেই কাঙ্ক্ষিত রুপে গঠন করতে চান, যেভাবে তিনি আমাদেরকে দেখতে পছন্দ করেন। এভাবে আমরা অপরিণত থেকে পরিণত হই। আরও ম্যাচিউর হই। আমরা ভূল থেকে নতুন কিছু শিখি ও পরবর্তীতে আরও দৃঢ়তার সাথে পথ চলতে পারি।

অতএব, আমাদের লাইফে যা কিছু আকর্ষনীয়, যা কিছু আমাদেরকে দূর্বল করে ফেলে, তা আল্লাহই প্রেরণ করেন অথবা জীবন থেকে সরিয়ে দেন, “ফিতনাহ” হিসেবে। কি জন্য? আমাদেরকে পরিবর্তন করার জন্য। আরও শক্তিশালী করার জন্য। ঈমানকে আরও মজবুত করার জন্য। আরও সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য। রবের আরও নিকটবর্তী হওয়ার জন্য।

ওয়াল্লাহু আ’লাম।


# সংগৃহীত পোস্ট

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *